M.A Wares Babu
M.A Wares Babu
Managing Director, City Advance Lab Ltd Founder, Eco Vill Resort Co-Founder, City Point Krishok Co-Founder, City Adventure Travel's Co-Founder, E-Center Chairman, Manobseba Cell, E-Commerce Association of Bangladesh (E-Cab) President, Bangladesh Youth Entrepreneur Society (BD-YES) General Secretary, Humanitarian Society for People of Bangladesh (HPPB Advisor,Dhumketux Rocket The First Rocket in Bangladesh
M.A Wares Babu

Blog

ভয় ও ঝুঁকি নিয়ে কয়েক ঘন্টাঃ

ভয় ও ঝুঁকি নিয়ে কয়েক ঘন্টাঃ

ভয় ও ঝুঁকি নিয়ে কয়েক ঘন্টাঃ

সময়টা জানুয়ারির শেষ দিকে,হঠাৎ মাথায় ভূত চেপে বসলো কয়েক ঘন্টা সুন্দরবনের গহীনে হাঁটতে হবে তীক্ষ্ণ শ্বাসমূলের উপর দিয়ে।

চলে গেলাম শরণখোলা রেঞ্জে।

সকাল ৯ টায় ছোট বোটে ৪ জন অভিজ্ঞ স্থানীয় বনকর্মী নিয়ে সরু খালের গভীরে বাঘের অধিক চলাচল যোগ্য এরিয়ায় বনের ভিতরে প্রবেশ করলাম।

বড় বড় কেওড়া সুন্দরীর সাথে সাথে হেথালের ঝোপঝাড় এর মাঝে সরু পায়ে হেঁটে তৈরী করা পথ দিয়ে এগুচ্ছি।

হাতে ৬ ফিট লম্বা সুন্দরী গাছের লাঠি,মুখ তীক্ষ্ণ করে আদিম যুগের অস্ত্র।

সামনের রক্ষীর হাতে শক্তিশালী দা,যা দিয়ে গুল্ম জাতীয় লতা ও হেথালের বাধা কেটে এগুচ্ছি,বাকীদের হাতে মুখ তীক্ষ্ণ করা ৫ ফিটের লাঠি।

কিছু পথ দূরত্ব দিয়ে বড় গাছে চিহ্ন একে একে এগুচ্ছি আমরা।।

ঘন্টা খানেক হাঁটার পর বাঘের কাঁচা পায়ের ছাপ দেখলাম,কিছুটা ভয় আকড়ে ধরেছে দেখে দলনেতা বাদল ভাই বললেন স্যার ভয় পাবেন না,আমাদের চারজনকে ডিঙ্গিয়ে আপনাকে ধরতে হবে বাঘের।মূলতঃ এগুলো যে কথার কথা এটা আগে থেকেই ধারণায় আছে।

তীক্ষ্ণ দৃষ্টি নিয়ে এগুচ্ছি আমরা,বাতাসের ছিটেফোঁটা ও নেই,মূলত বনের গভীরে বাতাস থাকে না,কিছুদূর পর হরিণের বিষ্ঠা পেলাম।।

রোদ মাথার উপরে,গাছের গোড়ায় বসলাম, বাদল ভাই বললেন আর সামনে যাওয়া ঠিক হবে না,অনেক গভীরে চলে এসেছি।সবাই সাই দিলেন।

১০/১৫ মিনিট বিশ্রাম নিয়ে ফিরার পথে রওনা দিলাম,চিহ্ন দেখে এগুচ্ছি,পায়ের নিচে তীক্ষ শ্বাসমূল।।যে শ্বাসমূলের উপর ভাগের বাকল হরিণ খেয়ে ফেলেছে তা ছুরির ন্যায় ধারালো যা বেয়নেটের মত ঝুঁকি পূর্ণ।।

প্রায় আধা ঘন্টা হাঁটার পর ঘূর্ণিঝড় সিডরে ভেঙ্গে পড়া এক সুন্দরী গাছে প্রায় ১০/১২ হাত লম্বা সাপ (বিড়া) পাকিয়ে বসে আছে,যা কিছুক্ষণ আগে আমরা ডিঙ্গিয়ে এসেছিলাম।কালো রঙ্গের,প্রথমে ভেবেছিলাম কিং কোবরা,কিং কোবরা এত বড় হয় না,আবার পাইথনও না।

আমরা সাপকে সতর্ক করার জন্য শব্দ করলাম,গাছের ডালে লাঠি দিয়ে শব্দ করলাম,সাপটি গাছ ছেড়ে দিয়ে আমরা যেদিক দিয়ে ঢুকেছিলাম ঠিক সেদিক দিয়ে চলে গেলো।

বিপত্তির শুরু এখানেই, এ পথ দিয়ে যাওয়া যাবে না,নতুন পথও নেই।।চিহ্ন হারালে বাধবে বড় বিপত্তি।

প্রায় ৬/৭ ফিট উত্তর দিয়ে পূর্বের পথ অনুমান করে আমরা এগুতে লাগলাম, ১৫/২০ মিনিট পর সামনে বিশাল ঝোপঝাড় ছাড়া আর কিছুই নেই,ঝোপঝাড় কেটে বেড় হওয়ার কোন রাস্তার অংশও নেই।।সম্ভবত খাল কিংবা নদীর কিনারের অংশ হতে পারে।

আবার উল্টো পথে হাঁটা, ঠিক যেখানে সাপ ছিল সে উদ্দেশ্যে,এবার এটাও খুঁজে পাচ্ছি না,দলের সবাই কিছুটা ভীত তা বলার উপেক্ষা রাখেনা।

দলনেতার হুঙ্কার সূর্য এখনো মাথার উপরে,বাকী সময়ে পুরো এরিয়া ঘুরে ফেলা যাবে,তবে তিনিও যে কিছুটা দিকভ্রান্ত হয়েছেন কথাতে বুঝা যাচ্ছিল স্পষ্ট।।

স্যার,কেমন লাগছে আপনার,অনেক গরম পড়েছে আজ,পানি খাবেন?

আমার এ এরিয়া গুলো হাতের নাগালে,আপনি ভয় পাবেন না।

একটা গল্প শেয়ার করলেন,তার বাবার কাছে শুনা,প্রায় ৩৫ বছর পূর্বে খালে (খালের নাম মনে নেই) বড় একটি বাঘ খাল পার হয়ে এক বন থেকে আরেক বনে যাচ্ছিল।।খালে থাকা বিশাল এক কুমির বাঘের মাজা (পিছনের দিকে) আক্রমণ করলো শিকারের উদ্দেশ্যে।বাঘও পাল্টা আক্রমণ।

ধস্তাধস্তির আওয়াজ আর চিৎকারের আওয়াজ নদী ও খালে থাকা জেলে মৌওয়ালেরা শুনতে পাচ্ছিল কিন্তু শব্দের উৎসে যেতে সাহস পাচ্ছিল না।

প্রায় তিনঘণ্টা পর জেলেরা খালের মাঝামাঝি অংশে বাঘ ও কুমিরের লাশ পেয়েছিল।।

আবার বসলাম,দিক হারিয়েছি বুঝলাম, সূর্যের অবস্থান দেখে আবার হাঁটা শুরু করলাম,ঘন্টা খানেক সরু পথে হাঁটার পর আমি লম্বা একটি গর্জন গাছ দেখলাম।

আমার কেন জানি মনে হয়েছিল গাছটির পরিচিত, এমন একটি লম্বা গাছের নিচে আমি ছবি তুলেছি।।

সবাই একসাথে এগিয়ে গেলাম গাছটির কাছে,আলহামদুলিল্লাহ ঐ গাছটিই,যার গোড়া বিশাল প্রায় কয়েকশ বছর পুরনো সম্ভবত গাছটি।

এবার গাছের গায়ে দেয়া চিহ্ন পেলাম আর তা ধরে ধরে খালের পাড়ে বাধা আমাদের নৌকায় পৌছলাম।।

দলনেতা বললেন চলেন আপনাকে খালের আরো গভীরে নিয়ে যাই,আমি বললাম না চলেন রেঞ্জে যাবো এখন প্রচন্ড ক্ষুধা লেগেছে আসলে ভয় পেয়েছিলাম প্রচন্ড।।

খালে কচুরিপানা ও অন্যান্য লতাপাতা কাটিয়ে ২.৩০ এ গন্তব্যে পৌছালাম।।

সত্যি বলতে ৩ সপ্তাহ আগে রেঞ্জের দক্ষিণ পাশের জেটিতে বসে বাঘের প্রায় ২৫ টি ডাক শুনেছিলাম আমি আর ফরেস্টার আসাদ ভাই।

সে লক্ষ্যেই এবারের যাত্রা এদিকে দিয়েছিলাম।

যাইহোক যতটা না ভয় পেয়েছি এরচেয়ে অধিক বেশী আরো গহীনে ঢুকার দুঃসাহস ও নেশা জেকে বসেছিল।।

উপলব্দিঃ

একটি সাপ আমাদের পথ ঘুরিয়ে দিয়েছিল,

গহীন বন,মরুভূমি ও সমুদ্রে কখনোই চিহ্ন ব্যতিত চলা অসম্ভব।

ছবিটি কক্সবাজারের নাজিরার টেকে শুটকী পল্লীতে,যেখানে বিষ মুক্ত শুটকি উৎপাদন করা হয়,সিটি পয়েন্ট ডট কম ডট বিডিতে সেরা পণ্য গুলো পাবেন মহান মে দিবসেই।।

রোমাঞ্চকর ভ্রমণ আর সেরা পণ্য খোঁজা আমাকে সমৃদ্ধ ভান্ডারের খোঁজ দিয়েছে,আপনাদের সাথে শেয়ার করবো,ই-কমার্স সেবার মাধ্যমে।।

সামনে শেয়ার করবো রাতে শাহপরীর দ্বীপ থেকে ট্রলারে সেন্টমার্টিন,মাঝপথে ইঞ্জিন বিকল হওয়া।

ভ্রমনে সঙ্গী হবেন কেও,কমেন্টে সাহসী আওয়াজে বুকিং দিয়ে রাখুন।।

ঈদ মোবারক।।

May be an image of 1 person