Blog
"মধ্যবিত্ত"
সময়টা ১.৪৫ কি ৫৫ গত ০৯ তম রোজায়,মাদ্রাসা কোয়ার্টার থেকে রিক্সায় করে নতুনবাজার যাচ্ছি।
রিক্সা বাউন্ডারি রোড হয়ে পিয়নপাড়া দিয়ে টাউনহল টু নতুনবাজার রাস্তা ধরবে।।
পিয়নপাড়া প্রবেশের পর প্রায় ফাঁকা রাস্তা দিয়ে চলছিল রিক্সা।হঠাৎ করেই একজন মধ্যবয়স্ক (বোরকা পরিহিত) মহিলা সরু রাস্তা পার হতে গিয়ে অসাবধানতা বশত রিক্সার সামনে এসে পড়লো।
রিক্সা চালকের কিছুই করার ছিলনা,হার্ড ব্রেক কষলো কিন্তু কাজ হলনা।।
রিক্সার পাদানীতে ভদ্রমহিলা কোমড়ে সজোড়ে ধাক্কা খেয়ে রিক্সার একদম নিচে পড়ে গেলেন।চালক ও প্যাসেঞ্জার (আমি) সমেত রিক্সার ডান চাকাটা (পিছনের) ভদ্রমহিলার একপায়ের (হাঁটুর নিচ) দিয়ে চলে এসে অপর পায়ে এসে থেমে গেলো।
দ্রুততার সাথে লাফ দিয়ে রিক্সা থেকে নেমে রিক্সাকে পিছনের দিকে নিয়ে গেলাম।
ততক্ষণে উল্টো দিক থেকে আরেকটি বড় রিক্সা এসে থামলো।
আশেপাশে কোন নারী না থাকায় ওনাকে বললাম আমার হাতে ধরে উঠতে পারবেন কিনা,তিনি ইশারায় তাকে ধরতে বললেন।।
কোনভাবেই তাকে হাত ধরে তুলতে পারছিলাম না,উল্টো দিকের রিক্সার প্যাসেঞ্জার এসে অপর হাতে ধরে ওনাকে দাড় করালাম।।
প্রচন্ড ব্যাথা পেয়েছেন এদিকে রিক্সা চালক যথেষ্ট ভয় পেয়ে গিয়েছে।
তিনি বললেন পাশের গলিতে এমডি স্যারের বাসায় যাবেন আমি যেন পৌঁছে দেই,
যে রিক্সায় দূর্ঘটনা সে রিক্সায় ওনাকে তুলে নাহা রোডের দিকে রওনা হলাম।
বললাম রাস্তা সাবধানে পার হবেন এখন থেকে,
তিনি উত্তর দিয়েছিলন,ভাই এমডি স্যারের বাসায় যাচ্ছিলাম,বেতনের টাকা মেডামের কাছে রাখা আছে।
বাসার মালিক ভাড়ার জন্য অনেক চাপ দিচ্ছিল,দুদিন যাবৎ হাই প্রেশার,তাই টাকাটা অনেক বেশী প্রয়োজন ছিল।।
প্রেশার নিয়ে বেরোলেন কেন?
আজকের মাঝে বাড়ী ওয়ালা টাকা যেভাবেই হোক দিতে বলেছে কোন উপায় ছিল না।।
সত্যি বলতে শহরগুলোতে আন্তরিক মানুষ কিংবা অন্যের সমস্যা বুঝার মানুষ খুব কম।
মধ্যবিত্তরা শুধু সন্তানদের একটু ভাল ভবিষ্যত বিনির্মানে বড় ধরনের ত্যাগ শিকার করে যাচ্ছেন।।
একটা সময় ১০/১২/১৫ তারিখেও বাসা ভাড়া দেয়া যেত এখন ৪/৫/৬ তারিখের মাঝেই দিয়ে দিতে হয়।
বেতন অধিকাংশ সময়ে ৮/৯/১০ কিংবা তারও পরে হয় কিন্তু অনেকেই মানতে চান না এটা ধ্রুব সত্য।
হয়তো বাসার মালিকও সমস্যায় থাকতে পারেন।।
কভিড আমাদের অনেক পিছিয়ে দিয়েছে,তবে আরো বেপোরোয়া জীবন তৈরী করেছে।
দিন দিন আমরা বেপোরোয়া থেকে বেপরোয়া হচ্ছি,টাকা উপার্জন নেশার চেয়েও অধিক ভাবে ঝেকে বসেছে।।
পাশের মানুষ, প্রতিবেশী কি ভাবে আছে তাও জানার বিন্দু পরিমান চেষ্টাটাও হারিয়ে যাচ্ছে।
এরকম অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাত্রা মধ্যবিত্তকে উত্তাল সাগরে নিয়ে যাচ্ছে ক্রমাগত।।
মধ্যবিত্তরা সত্যিই ভাল নেই!!
কারণ আমিও মধ্যবিত্তের অন্তরালে সময় পাড় করছি।
যাইহোক নাহারোডে প্রবেশের পর রোডব্রেক্রার সংলগ্ন বাসায় রিক্সা থামাতে বললেন,ধরে নামালাম।
তিনি একহাতে পার্স থেকে রিক্সা ভাড়া বের করতে চাইলেন,আমি বাধা দিলাম বললাম এ রিক্সা নিয়ে আমি যাচ্ছিলাম,আপনি বাসায় ঢুকে মাথা ও পায়ে পানি দিবেন।
তিনি বললেন ভাই ঋণী হয়ে গেলাম দোয়া করি আপনার জন্য।
অথচ আমি বড় ধরনের কোন সহযোগিতা উনাকে করিনি।।
ঐ দিনটা খুব ঘোরের মাঝে ছিলাম,আমি সহ রিক্সাটি উনার পায়ের উপর দিয়ে চলে যাওয়াটা খুব দাগ টানছিল।
সম্ভবত উনার বয়স ৫০ উর্ধ্ব হবে।
মধ্যবিত্তরা ভাল থাকুক
তাদের বড় সম্পদ সততা,আত্মসম্মান,বিনয় গুলো আঁকড়ে ধরে সুন্দর ভবিষ্যত বিনির্মাণে।।
বিঃদ্রঃ ঘটনা ছোট তবে এতটুকু তে মধ্যবিত্তদের গভীর বিষয়গুলো শুধুমাত্র মধ্যবিত্তরাই খুব সহজেই অনুধাবন করতে পারবে।
সকল প্রশংসাই মহান প্রতিপালকের প্রতি।।
See insights and ads








