Social Work
বিদ্যানন্দ নিয়ে তর্ক বিতর্ক চলছেই-
কিছু বিষয় না লিখে পারলাম না-
নিঃসন্দেহে প্রাকৃতিক দূর্যোগ বা জরুরি পরিস্থিতিতে বিদ্যানন্দ সহ,এক টাকার আহার ইত্যাদি ইত্যাদি সংগঠনের কাজ প্রশংসার দাবীদার।
কিন্তু ধারাবাহিক ভাবে ১ টাকায় একবেলা খাদ্য কর্মসূচী কোনভাবেই সামাজিক পরিবর্তন ডেকে আনতে সক্ষম নয়।
হাজার হাজার টাকা ব্যয়ে প্রতিদিন
টার্গেটেড লোকেশন,অডিয়েন্স সিলেক্ট করে অতি আবেগীয় কনটেন্ট বিষয়গুলো বাণিজ্যিক বাণিজ্যিক লাগে।।
শত শত উদাহরণ আছে চোখের সামনে,
শিশু কিশোরদের ব্যবহার করে বাণিজ্য,
রাস্তা ঘাট পরিস্কার বাণিজ্য,
প্রতিবন্ধীদের ব্যবহার করে বাণিজ্য,
মসজিদ, মাদ্রাসা,এতিমখানা ব্যবহার করে বাণিজ্য,
ত্রাণ বাণিজ্য,
লাশ দাফন কাফনে বাণিজ্য,
সিলিন্ডার বাণিজ্য,
পথশিশু বাণিজ্য,
গরীব অসহায়দের চাকরীর দেয়ার কথা বলে বাণিজ্য,
রক্তসেবা নিয়ে বাণিজ্য ইত্যাদি ইত্যাদি...
একবেলা খাবার কখনোই সাসটেইনেবল কাজ নয়,
দীর্ঘমেয়াদী যে কোন কাজ দেশের সার্বিক কল্যানে প্রোথিত হয় এটা নিরেট সত্য।।
শহর গুলোতে যারা ছিন্নমূল, যাদের কল্যানে হাজার হাজার,লাখ লাখ,কোটি কোটি টাকা অনুদান হিসেবে জমা পড়ে সেই তারা কোন এক প্রত্যন্ত গ্রাম,নদী ভাঙ্গনের শিকার হয়ে শহরমুখী হয়েছে।।
এদের নিজস্ব ভূমিতে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া স্বেচ্ছাসেবক দের কাজ নয়,কিন্তু স্বেচ্ছাসেবক গণ অন্তত ডাটাবেজ তৈরী করে দায়িত্ব শীল প্রতিষ্ঠানের সাথে আলোচনা,তথ্য প্রকাশ করতে পারে।।
ভলান্টিয়ার আর পেইড ভলান্টিয়ার কোনভাবেই এক ছায়াতে আসে না,
হাজার হাজার পেইড ভলান্টিয়ার কাজ করছে,
শত শত ভলান্টিয়ার সাজা মানুষ প্রতিনিয়ত প্রতারণা করছে,
এগুলো এখন সরাসরি প্রকাশিত।।
প্রতিদিন খাবারের রসদ কোটি কোটি মানুষের সামনে বিজ্ঞাপন হওয়ার ব্যাপারগুলো দেশের ভাবমূর্তি কি ক্ষুন্ন করে না??
আবেগধর্মী অনুদান
ব্যক্তি প্রচারণা ভিত্তিক অনুদান
ভাইরাল হওয়া ভিত্তিক অনুদান সমাজের কোষগুলোকে আরো কলুষিত করছে।।
পাশের বাড়ির জমিলা,রুমেলা রেখে যাকাতের টাকা প্রদানে অতি উৎসাহী অবস্থান গুলোই সামাজিক কাজের প্রয়াসকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।
এক টাকার আহার,পথে পথে খাবার মন থেকে চাই বন্ধ হয়ে যাক।।
প্রাকৃতিক দূর্যোগ বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হলে স্বেচ্ছাসেবক দের কাজের গতি বাড়ুক।।
সত্যি বলতে দেশে সামাজিক কাজ একটা পেশায় পরিগণিত হয়ে গেছে-
এমনও সামাজিক কর্মী আছে নিজের অবস্থাই দৈন্যদশা,পেশাগত কাজ রেখে নিবেদিত ভলান্টিয়ার সেজে সামাজিক কাজকে পেশায় পরিনত করেছে!!
দীর্ঘমেয়াদী কোন কাজ নেই,
আবেগ নির্ভরতার কাজ প্রায় সবদিকেই।।
আবারো বলছি বিদ্যানন্দ কিংবা অন্যান্য সংগঠন গুলোও ভাল কাজের উদাহরণ তৈরী করেছে নিঃসন্দেহে কিন্তু প্রতিদিন হাজার হাজার টাকা বুস্টিং করে একবেলা খাদ্যের প্রজেক্ট পরিপূর্ণ করাটাকে বাণিজ্যিক বাণিজ্যিক লাগে।।
চোখের সামনে শত শত উদাহরণ আছে।।
তর্ক নয়,সাসটেইনেবল কিছু করা হোক,
ভাল কাজের প্রয়াসে এগুলো অসম্ভব নয়।।
এম এ ওয়ারেছ বাবু
সামাজিক কর্মী
বাংলাদেশ চিরজীবী হোক।।








